জন সাধারনের জন্য হুমকি করোনা ও বজ্রপাত!!

আশিকুর রহমান, বিশেষ প্রতিবেদক

করোনাভাইরাসে প্রতিদিন মৃত্যু সংবাদের সঙ্গে যোগ হয়েছে দেশে বজ্রাঘাতে মানুষের মৃত্যুর খবর। শুরু হয়েছে বজ্রপাতের মৌসুম।

এদিকে বিশ্বব্যাপী লকডাউনের ফলে পরিবেশে জীবন ফিরেছে। মনে করা হচ্ছিল চলতি বছর এজন্য বজ্রপাতের পরিমাণ কমে আসতে পারে। কিন্তু এই ধারনা ভূল প্রমাণিত করে গত ৪ এপ্রিল প্রথম বজ্রপাত ঘটেছ। আর বজ্রাঘাতে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পেতে আকাশে মেঘ ডাকলে ঘরে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।

বলা হচ্ছে, করোনা ও বজ্র থেকে বাঁচতে হলে ঘরে থাকাই বড় ভরসা। সারাদেশে চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বজ্রপাতে ৭৯ জন মারা গেছে এবং মে মাসে বিভিন্ন জায়গা ২৫ জন মারা গেছে। প্রকৃতিক দূর্যোগ যেন আমাদের ক্রাস করে ফেলছে। এক দিকে করোনা আরেক দিকে বজ্রপাত। প্রকৃতিক পরিবেশ তাকে নিজের বদলা নিচ্ছে বোধ হয়।

আশিকুর রহমান জানান, বজ্রপাতের সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণতার গভীর সম্পর্ক আছে পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় আকাশে মেঘের পরিমাণ বেড়েছে। এতে বজ্রপাতও বেড়েছে। যেহেতু বৈশ্বিক উষ্ণতা কমেনি।তিনি বলেন, ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় শুরু হয়ে গেছে। করোনায় সব থেমে যাওয়ায় পরিবেশ দূষণ কমেছে। কিন্তু গ্রিন হাউজ গ্যাস তো কমেনি। সেটি তো আগেই জমা হয়ে আছে।

এখন বলা যায়, পরিবেশ দূষণ কম হবার কারণে নতুন করে হয়তো কম জমছে। কিন্তু গ্রিন হাউজের প্রভাবে যে উষ্ণায়ন তা তো অব্যাহত আছেই। বছরে এত মানুষের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও খুব বেশি কিছু করা হয়নি বজ্রপাত নিরোধে।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে কীভাবে মানুষকে বাঁচানো যায় তার বিকল্প দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। সরকার বজ্রপাত কমাতে তাল গাছ লাগানোর প্রকল্প নিয়েছে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে কীভাবে বজ্রনিরোধ এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব—সে বিষয়ে এখনও তেমন কোনও কাজ হয়নি দেশে। এ বিষয়ে যথেষ্ট গবেষণা হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করি।
বাংলাদেশে প্রতিবছর কতগুলো বজ্রপাত হয় সেটি রেকর্ড করার প্রযুক্তি নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর ২৫ মিলিয়ন বজ্রপাত হয়। কিন্তু বজ্রপাতে মানুষ মারা যায় ৪০ থেকে ৫০জন। ভারতীয় আবহাওয়া অফিসের রাডার থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার তথ্য মতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ২৪০০’র মতো বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এম. এ ফারুকের নেতৃত্বে এ গবেষণাটি করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বজ্রপাতের প্রবণতা বাড়ছে। এর সঙ্গে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে।বিশ্বে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বাংলাদেশে।

বিশ্বে মোট বজ্রপাতের এক-চতুর্থাংশ বাংলাদেশে ঘটে বলে জানানো হয়েছে ন্যাশনাল লাইটনিং সেফটি ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনেও।

Facebook Comments
আরো পড়ুন