দৈনিক জার্নাল বাংলায় সংবাদ প্রকাশের পর পূর্বধলায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন ১০ গ্রামের মানুষ

নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ রানা সরকার

পূর্বধলা উপজেলার মৌদামসহ আশপাশের ১০ গ্রামের মানুষ অবশেষে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কের আওতায় আসছে। মোবাইল ফোন কোম্পানি বাংলালিংক ঐ এলাকায় টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।

এতে এলাকাবাসী আনন্দিত হওয়ার পাশাপাশি বাংলালিংক কোম্পানি ও দৈনিক জার্নাল বাংলা পত্রিকাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। গত ৩ অক্টোবর  ও ৪ অক্টোবর দৈনিক জার্নাল বাংলা পত্রিকায়, “পূর্বধলায় বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়।

স্থানীয়রা জানান, মৌদাম গ্রামে টাওয়ার স্থাপনের জন্য ইতোমধ্যে জায়গা নির্ধারণ ও মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। বাংলালিংকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সার্ভেয়ার তামিম ইকবাল দৈনিক জার্নাল বাংলাকে জানান, ওই এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মৌদাম গ্রামে একটি টাওয়ার স্থাপনের জন্য জায়গা নির্ধারণ ও মাটি পরীক্ষা করা হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই কাজ শুরু হবে।

টাওয়ার স্থাপনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাডভোকেট বাবুল হোসেন বলেন, ওই এলাকায় টাওয়ার স্থাপনের জন্য নির্বাচিত জায়গার আইনগত দিক পরীক্ষা করে চূড়ান্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, উপজেলার জারিয়া, ঘাগড়া ও আগিয়া ইউনিয়নের সংযোগস্থল মৌদাম, টিকুরিয়া, পদুরকান্দা, কান্দাপাড়া, বেড়াইল, নোয়াগাঁও, উদুয়ারকান্দা ও রামকান্দাসহ ১০ গ্রামে কোন মোবাইল ফোন টাওয়ার না থাকায় ফোন কল বা ইন্টারনেট ব্যবহার করা যায় না। এতে ১০ গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ই-লার্নিংসহ বেশিরভাগ কাজ এখন ইন্টারনেটভিত্তিক। পোস্ট ই-সেন্টারে অনলাইন ব্যাংকিং, চাকরিসহ বিভিন্ন আবেদন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি, পরীক্ষার ফলাফল ও বিভিন্ন নাগরিকসেবা রয়েছে। ক্লিনিকেও ই-চিকিৎসাব্যবস্থা আছে। কিন্তু নেটওয়ার্ক গতিশীল না থাকায় এসব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গ্রামগুলোর কয়েক হাজার মানুষ। তারা জরুরি কোন খবরাখবর আদান-প্রদান করতে পারছে না।

মৌদাম গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল আলম মামুন, আবু চান, তাজ উদ্দিনসহ অনেকে বলেন, টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগের কথা জেনে তারা খুবই আনন্দিত। তাই তারা বাংলালিংক কোম্পানিকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

মৌদাম বাজারের ব্যবসায়ী শামছুল হক মন্ডল ও রাকিব হোসেন বাচ্চু বলেন, নেটওয়ার্ক না থাকায় ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। টাওয়ারটি নির্মাণ হলে ব্যবসার গতিশীলতা বাড়বে।

মৌদাম সেসিপ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, এখানে মোবাইল ফোনের টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানান। কাজটি শেষ হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তারা ই-লার্নিংয়ের সুবিধা পাবে।

Facebook Comments
আরো পড়ুন