নিজের তৈরি প্রতিমা দিয়ে পূজা করছে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী

নেত্রকোনা প্রতিনিধিঃ রানা সরকার

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় নিজ হাতে প্রতিমা বানিয়ে নিজেই মন্ত্র পড়ে দুর্গাপূজা করছে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নির্মাণ দত্ত। চার বছর ধরে সে নিজের তৈরি প্রতিমা দিয়ে বাড়িতে পূজা করছে। বিষয়টি এলাকায় সাড়া ফেলেছে।
নির্মাণ দত্ত পৌর শহরের শিবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা গোপাল দত্ত ও নমিতা দত্তের ছোট ছেলে। সে দুর্গাপুর মহারাজ কুমুদ চন্দ্র মেমোরিয়াল (এমকেসি) পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে।
নির্মাণ দত্তের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্মাণ দত্তের ছোটবেলা থেকেই ছবি আঁকার প্রতি আগ্রহ। ২০১৬ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় তার মনে সাধ জাগে দুর্গাপ্রতিমা তৈরির। কোনো ওস্তাদ না ধরেই বাড়িতে বাঁশ, কাঠ, খড়, মাটি ইত্যাদি প্রতিমা তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করে প্রতিমা তৈরি করে ফেলে। এরপর নিজ হাতে গড়া প্রতিমা দিয়ে পূজার বই সংগ্রহ করে নিজেই মন্ত্র পড়ে পূজা করে ফেলে। তার এই প্রতিভা দেখে মা-বাবা, স্বজনসহ প্রতিবেশীরা অবাক হন। এভাবে প্রতিবছর বাড়ির আঙিনায় মণ্ডপ তৈরি করে পূজা করেছে নির্মাণ দত্ত।

গত এক মাসের প্রচেষ্টায় নির্মাণ দত্ত তৈরি করল দুর্গা, কার্তিক, গণেশ, মহিষাসুর, লক্ষ্মী, সরস্বতীর প্রতিমাসহ ওই দেবতাদের বাহন। এরপর রংতুলির কাজটিও সে নিজের হাতে করে। কোনো ডাইস বা ফর্মা ছাড়াই নিজ হাতে প্রতিমাগুলোর মুখমণ্ডল তৈরি করেছে, যা অভাবনীয় সুন্দর কারুকার্যমণ্ডিত।

নির্মাণ দত্ত দৈনিক জার্নাল বাংলাকে জানায়, ‘আমি নিজ হাতে দেবী দুর্গা মাকে বানাব, এটা আমার ইচ্ছা ছিল। সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা ও সবার আশীর্বাদে আমি সেটা করতে পেরেছি। পুরোহিত ছাড়া নিজেই আমি দুর্গা মায়ের পূজা-আরাধনা করছি। মায়ের কাছে তো সবাই সমান। কোনো জাতভেদ নেই। আর এটাও ঠিক না যে শুধু ব্রাহ্মণ পুরোহিতই পূজা করতে পারবেন।’
দুর্গাপুর উপজেলার পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি আইনজীবী মানেশ চন্দ্র সাহা দৈনিক জার্নাল বাংলাকে বলেন, ‘প্রতিমা তৈরিতে নির্মাণ দত্তের নিখুঁত কাজ সত্যিই অসাধারণ। সাধারণত পাল বা আচার্য বংশের লোকজন বংশ পরম্পরায় এই প্রতিমা তৈরির কাজ করে থাকেন। নির্মাণ দত্ত ওই বংশের সন্তান না হয়েও যে প্রতিমা তৈরি করেছে, তা দেখে আমরা আশ্চর্য হয়েছি। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে সে অনেক বড় কারিগর হবে। প্রতিমা তৈরিতে তার নিখুঁত কাজ সত্যিই অসাধারণ।

Facebook Comments
আরো পড়ুন