আর্থিক ক্ষতি মোকাবিলায় এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপে চোখ বিসিবির

করোনার ধাক্কায় ইংল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর বোর্ডের মাথায় যখন চিন্তার ভাঁজ তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কিছুটা হলেও স্বস্তিতে!

‘ভাগ্যিস এখন কোনো হোম সিরিজ ছিল না।’ – বলছিলেন ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তা। তাঁর ব্যাখ্যা ছিল, ‘যদি এপ্রিল কিংবা মার্চে হোম সিরিজ থাকত এবং সেগুলো যদি পিছিয়ে যেত তাহলে বড় আর্থিক ক্ষতি হয়ে যেত।’

আপাতত সেসব চিন্তা করতে হচ্ছে না বিসিবির। করোনায় বন্ধ হয়েছে ঢাকা লিগ। এছাড়া পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড সফর স্থগিত। সেসব সফরের ব্যয় আয়োজকরা বহন করতো, তাই বাড়তি চিন্তা নেই বিসিবির। ঢাকা লিগে যে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে তা আগামী বিপিএল দিয়ে খুব সহজেই পুষিয়ে নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি ফিনান্সিয়াল কমিটির প্রধান ইসমাইল হায়দার মল্লিক। তবে বিসিবি তাকিয়ে এশিয়া কাপ ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে।

বৈশ্বিক এবং মহাদেশীয় টুর্নামেন্টগুলো থেকে বোর্ডের আয়ের বড় অংশ আসে। সেগুলো থেকে যতটা সম্ভব আয় করতে চায় বিসিবি। বিসিবির বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপে অংশ নিলে বিসিবির তহবিলে জমা হবে ৩ লাখ ডলার। প্রথম পর্ব পেরিয়ে সুপার টেনে খেলতে পারলে আরও ৫০ হাজার ডলার জমা হবে। সেরা চারে যেতে পারলে সাড়ে ৭ লাখ ডলারও আয় হতে পারে। আবার এশিয়া কাপ মাঠে গড়ালে ২ লাখ ডলার পাওয়া যাবে।

মে মাসে অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফরে আসার কথা। নিউজিল্যান্ডেরও বাংলাদেশ সফরের সূচি রয়েছে। তাসমান পাড়ের দুই দেশের সফর স্থগিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেগুলো স্থগিত হলে আর্থিক ক্ষতি হবে ঠিকই কিন্তু বিসিবির শীর্ষ মহল সেগুলো নিয়েও চিন্তিত নয়। ম্যাচগুলো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় ২০২২ সালের আগে যে কোনো সময় আয়োজন করা যাবে বলে বিশ্বাস করে বোর্ড।

‘অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে সফর স্থগিত হলে দুই বছরের ভেতরে আয়োজন করতে হবে। সেগুলো টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ। ম্যাচগুলো আমাদের এখানে এসে খেলতেই হবে। ফলে এখন আয়ের সুযোগ বন্ধ হলেও দ্রুত সময়ে আমরা সেগুলো আয়োজন করতে পারব।’ – রাইজিংবিডিকে বলেছেন ইসমাইল হায়দার মল্লিক।

‘করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের বড় ক্ষতি হচ্ছে না। পাকিস্তানও আয়ারল্যান্ডের সফর স্থগিত হয়েছে। সেগুলোর ব্যয়বহন করতো সেই বোর্ড। আমাদের জন্য আইসিসি টুর্নামেন্ট এবং এশিয়া কাপ গুরুত্বপূর্ণ। এ অর্থবছরে হয়তো ২০-২৫ শতাংশ ক্ষতি হতে পারে যেটা খুব দ্রুতই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। ’ – যোগ করেন তিনি।

বিপিএলের শেষ আসর বিসিবি আয়োজন করেছে নিজস্ব খরচে। এ বছরের ডিসেম্বরে বিপিএল হতে পারে ফ্রাঞ্চাইজিদের নিয়ে। ফ্রাঞ্চাইজিরা ফিরলে সব কিছু বাদ দিয়েও বিসিবিও কোষাগরে জমা হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

জার্নাল বাংলা/সাইফুল

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!