করোনা আতঙ্কের মধ্যে পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস

বিশ্বজুড়ে করোনা আতঙ্কের মধ্যেই পালিত হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। দেশে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সরাসরি কোনো কমসূচি না থাকলেও ভার্চুয়াল ব্যবস্থায় কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন দিবসটি উদ্যাপনের কর্মসূচি নিয়েছে। এবারের দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘নার্স ও মিডওয়াইফের দায়িত্বে সহযোগিতা মানসম্মত সেবার নিশ্চয়তা।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশ্বের দুই কোটি ২০ লাখ নার্স ও ২০ লাখ মিডওয়াইফের অবদানের স্বীকৃতির অংশ হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৭২তম অধিবেশনে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দকে আন্তর্জাতিক নার্স ও মিডওয়াইফারি বর্ষ ঘোষণা করেছে। বিশ্বে স্বাস্থ্য খাতের মোট জনবলের ৫০ শতাংশই নার্স ও মিডওয়াইফ অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে।

২০২০ সালে ঠিক এই দিনটিতে বা বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সমগ্র বিশ্বে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১২, ৮৯,৩৮০ জন আর মৃত্যের সংখ্যা ৭০ হাজার ৪৮২ জন। বিশ্বের প্রায়-সকল দেশেই কমবেশি আকারে হলেও করোনার অস্তিত্ব ও তাণ্ডব বিরাজমান।

জনস হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বা পাবলিক হেলথ বিভাগ প্রদত্ত এই তথ্য-পরিসংখ্যানের আশাবাদী দিক হলো, ২ লাখ ৭০হাজার ২৪৯ জন মানুষ প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্ত হয়েও সুস্থ হয়েছেন। যে চীনে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ দিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব, সেখানে তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। চীন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পেরেছে।

একই আশাবাদ শোনা যাচ্ছে, করোনায় আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত শীর্ষ পাঁচটি দেশের অন্যতম ইতালি, স্পেন ও জার্মানি থেকেও। সেখানে করোনায় মৃত্যুর হার কমেছে। আক্রান্ত মানুষের সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার হার বেড়েছে এবং কার্যকরী প্রতিষেধক ঔষধ আবিস্কৃত না হওয়ার পরেও সামাজিক দূরত্ব ও সঙ্গরোধের মাধ্যমে রোগটির কমিউনিটি পর্যায়ে সংক্রমণের ধারা ঠেকানোর সক্ষমতা দেখা গেছে।

করোনার কারণে এমনই ঘোরতর স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের পৃথিবীতে ঘরবন্দী হয়ে আছে মানুষ।

এমনই চ্যালেঞ্জিং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস আশাবাদের প্রত্যয় জাগিয়েছে, যেমন প্রত্যয় ও প্রতীতি জাগ্রত হয় প্রতি বছরেই, দিবসটির মূল প্রতিপাদ্যে। চলতি বছরে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের মূলকথা হলো ‘সাপোর্ট নার্সেস অ্যান্ড মিডওয়াইফস’। করোনার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে যে সেবিকা ও ধাত্রীগণ লড়ছেন, তাদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করা হলো এই ঘোষণার মাধ্যমে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডব্লিউএইচও (হু), যারা বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের উদ্যোক্তা, তারা এ বছরের মূল প্রতিপাদ্যের সমর্থনে নিজস্ব ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, সমন্বিত ও জনমুখী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সেবিকা ও ধাত্রীদের প্রতি আরও সাহায্য বাড়াতে হবে। তাদের প্রশিক্ষণ ও ক্ষমতায়ন করতে হবে।

প্রসঙ্গত , দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চরম রক্তক্ষয়ী ও প্রাণঘাতী অভিজ্ঞতার ফলে বিশ্বের প্রায়-সকল রাষ্ট্রই একমত হয়ে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৪৫ সালে আন্তর্জাতিক সংগঠন জাতিসংঘ গঠন করে। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পরের বছর ১৯৪৬ সালে সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রূপরেখা তৈরির জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিশন গঠন করা হয়। অন্তর্বর্তীকালীন এই কমিশনের মতামতের আলোকে ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল গঠন করা হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। বিশ্বের মানুষের সুস্থতা নিশ্চিত করা এবং জীবন রক্ষার শপথে পরিচালিত হতে থাকে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

১৯৫০ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সারা বিশ্বের মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বার্তা নিয়ে প্রতিবছর পালিত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস।

জার্নাল বাংলা/সাইফুল

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!