রাস্তার মোড়ে মোড়ে লাঠিয়াল বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ মানুষ

সাভারে অপরিকল্পিতভাবে যত্রতত্র রাস্তাঘাট বন্ধ করে বিভিন্ন এলাকা লকডাউন করাতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় অতি উৎসাহী লাঠিয়াল বাহিনীর এমন অত্যাচারে অতিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।

এতে করে জরুরি সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অতি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হয়ে এসব লাঠিয়াল বাহিনীর হামলার শিকার হতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

অপরদিকে, এলাকাভিত্তিক এসকল লাঠিয়াল বাহিনীর নেতৃত্বে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক কর্তা ব্যক্তিরা থাকায় প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। এতে এসব ঘটনা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চুপ আছে বলে অভিযোগ এলাকার বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে সাভার, আশুলিয়া, ও ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এসব এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো বাঁশ, কাঠ, ইট ফেলে বন্ধ করে দিয়েছে স্থানীয় লাঠিয়াল বাহিনীর সদস্যরা। লাঠি-সোটা, হকিস্টিক হাতে বিভিন্ন এলাকায় টহল দিতে দেখা যায় কিছু বখাটে যুবকদের।

এসব গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ করে দেওয়াতে একদিকে যেমন বিভিন্ন জরুরি সেবা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে, অপরদিকে লাঠিয়াল বাহিনীর হাতে লাঞ্চিত হওয়ার ভয়ে জরুরি প্রয়োজনেও বাসা থেকে বের হতে পারছেন না এলাকার বাসিন্দারা।

সাভারের ব্যাংক টাউন এলাকার বাসিন্দা একটি ইংরেজি দৈনিকের সাভার প্রতিনিধি নোমান মাহমুদ জানান, কে বা কারা ব্যাংকটাউন পাগলার মোড় এলাকার মূল সড়কটি বাঁশ ফেলে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। এতে করে শনিবার সকালে পেশাগত কাজ থাকা সত্বেও বাসা থেকে বের হতে পারেননি তিনি। বিষয়টি জানাতে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি। এমনকি মুঠোফোনে বিষয়টি সাভার মডেল থানার এক কর্মকর্তাকে অবহিত করলেও তিনি এবিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘সকালে বাঁশ ফেলে রাস্তা বন্ধের বিষয়টি মুঠোফোনে সাভার মডেল থানা পুলিশের এক কর্মকর্তাকে অবহিত করি। তিনি বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার পরামর্শ দেন এবং এবিষয়ে কোন ব্যবস্থা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন। যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এমন করে এলাকার অনেক বাসিন্দাকেই বিপাকে পড়তে হচ্ছে।’

অপরদিকে, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার শ্রমিক নেতা খাইরুল মামুন মিন্টু জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে বেশ কিছু পোশাক শ্রমিক কারখানা থেকে বেতন নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। পথে নারী পোশাক শ্রমিকসহ একাধিক পোশাক শ্রমিক আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বখাটে লাঠিয়াল বাহিনীর মারধরের শিকার হন।

তিনি আরো জানান, এখনো সাভার আশুলিয়ার অনেক পোশাক কারখানায় বেতন দিচ্ছে। তাই শ্রমিকরা যাতে জরুরি প্রয়োজনে বাসা থেকে বের হতে পারে এবং কেউ যেন লাঞ্চিতের শিকার না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো দরকার।

রাস্তা বন্ধ করার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাভার মডেল থানার এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা এসি ল্যান্ড যদি ঘটনাস্থলে যান, তবে আমাদের পুলিশের পক্ষ থেকে টিম গিয়ে সহযোগিতা করবে।’

সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা এসি ল্যান্ডের হস্তক্ষেপ ছাড়া তিনি নিজে এবিষয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করেন।

সম্প্রতি সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমান তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাভার উপজেলার কোন রাস্তা-ঘাট বন্ধ কিংবা কোন এলাকা লকডাউন করা হয়নি।

এসময় উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি ব্যতিরেকে সকলকে রাস্তা-ঘাট বন্ধ করা থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন তিনি।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল হক জানান, সরকারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী জনসাধারণকে চলতে বলা হয়েছে। আমার এলাকায় কোন রাস্তা ঘাট প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। যদি কেউ অতি উৎসাহী হয়ে রাস্তা ঘাট বন্ধ করে অথবা লাঠিসোটা নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানতে চাইলে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মারুফ হাসান সরদার মুঠোফোনে বলেন, ‘আমরা জনগণকে ঘরের ভিতরে রাখতে পারতেছিনা। এক্ষেত্রে সকলকেই সচেতন হতে হবে।’

রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া জনগণকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে এমন প্রশ্নে এসপি বলেন, ‘এক্ষেত্রে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা অভিযোগের ধরন বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।’

উল্লেখ্য, সাভার ও ধামরাইয়ে প্রশাসনের তথ্যমতে এখনো কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি।

 

  • জার্নাল বাংলা/অর্ণব
Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!