ট্রাক থামিয়ে ত্রাণ নিয়ে গেলেন ক্ষুধার্তরা

ত্রাণবাহী ট্রাক রাস্তায় আটকিয়ে ত্রাণ লুটে নিল ক্ষুধার্ত মানুষেরা। ট্রাকটি সিংহজানি খাদ্য গোডাউন থেকে বানিয়ানাজার এলাকায় যাওয়ার পথে লুট করে তারা।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় মুকন্দবাড়ি এলাকায় এ ত্রাণ লুট হয়।

এ ত্রাণ জামালপুর পৌর এলাকার ২, ৪ ও ৬ নং ওয়ার্ডে কর্মহীন দরিদ্র লোকজনের মাঝে বিতরণের কথা ছিল।

এদিকে ত্রাণ লুট নিয়ে জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রের গড়মিল বক্তব্য। পৌর মেয়র ত্রাণ লুটের কথা অস্বীকার করলেও জেলা প্রশাসক স্বীকার করে বলেছেন, ‘তাদের ত্রাণ তারাই নিয়েছে।’

জানা গেছে, পৌরসভার ১২টি ওয়ার্ডে ২৪ মেট্রিকটন ত্রাণসামগ্রী পৌর মেয়রের নামে বরাদ্দ দিয়েছিল জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। প্রতি ওয়ার্ডে ২ মেট্রিকটন করে বরাদ্দের এই ত্রাণসামগ্রীর প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু ও ১ কেজি ডাল। জেলার সিংহজানি খাদ্য গুদাম থেকে ২, ৪ ও ৬ নং ওয়ার্ডে সরবরাহ করার জন্য ৬০০টি প্যাকেট নিয়ে একটি ট্রাক গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল। ট্রাকটি শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকায় এলে ট্রাকটি আটকে অধিকাংশ ত্রাণবঞ্চিতরা।

ত্রাণবঞ্চিতরা জানিয়েছেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণের নামে লিস্ট হলেও এ পর্যন্ত ত্রাণ পাননি তারা। এছাড়া কিছু এলাকায় ত্রাণ বিতরণের অভিযোগও করেন তারা।

পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহরিয়ার ইদু বলেন, ‘সিংহজানি খাদ্য গুদাম থেকে ত্রাণবাহী ট্রাক আসছিল। ওই ট্রাকে আমার ওয়ার্ডের ত্রাণও ছিল। মুকুন্দবাড়ি এলাকায় ত্রাণবঞ্চিতরা বিক্ষোভ করছিল। ত্রাণবাহী ট্রাকটি ওই এলাকায় প্রবেশ করলে ট্রাকটি আটকে ত্রাণসামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় বিক্ষুব্ধরা। আমার ওয়ার্ডের চাহিদাপত্র অনুযায়ী দরিদ্রদের তালিকা করা ছিল। ত্রাণসামগ্রী লুট হওয়ায় আমি পুনরায় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে চাহিদাপত্র দিয়ে ত্রাণ নিয়ে আসি।’

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. নায়েব আলী ত্রাণসামগ্রী লুটের কথা স্বীকার করে জানান, এসব ত্রাণ পৌরসভাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। প্রতি ওয়ার্ডে ২ মেট্রিকটন করে ১২টি ওয়ার্ডে ২৪ মেট্রিকটন ত্রাণসামগ্রীর প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু ও ১ কেজি ডাল। এসব ত্রাণ প্যাকেটজাত করা হয়েছিল যাতে বাড়ি বাড়ি নির্বিঘ্নে পৌঁছানো যায়।

পৌর মেয়র মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মনি বলেছেন, ত্রাণ লুটের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। যারা উপস্থিত ছিল ট্রাক থেকে সেখানেই দেওয়া হয়েছে। বাকিদের এলাকায় দিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক ত্রাণ লুটের কথা ঘুরিয়ে স্বীকার করে বলেন, ‘এই ত্রাণ দরিদ্র মানুষজনকেই দেওয়া হচ্ছিল। এটা দরিদ্র মানুষেরই খাবার। এক্ষেত্রে হয়তো শৃঙ্খলা মানা হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা মতো সমস্ত মানুষজনকেই খাবার পৌঁছে দিচ্ছি। দ্ররিদ্ররা আমাদের অবগত করলেই আমরা খাবার দিয়ে আসছি। রাস্তায় যে গাড়ি যাচ্ছিল, সেখানে তারা ত্রাণ চাচ্ছিল। তাদেরকে হয়তো দেওয়া হতো, তারা সেখানে শৃঙ্খলা মানেনি। দরিদ্ররা তালিকার মধ্যেই আছে। হয়তো তারা আগামীকাল ত্রাণ পেত।’

জার্নাল বাংলা/সাইফুল

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!