এটা বৈশাখীর মেলা, নাকি মহাসমাবেশ!

জার্নাল বাংলা ডেস্ক

এ দৃশ্য দেখে যে কেউ মনে করবেন- এ যেন বৈশাখীর মেলা চলছে। কিংবা কোনো মহোৎসবের সমাগম বা মহাসমাবেশ। বিশাল মাঠে কেবল মানুষ আর মানুষ। ওপরের ছবিটা দেওয়ানগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী বাজারের আজকের দৃশ্য। আজ, রবিবার এবং বুধবার এই দুই দিন সাপ্তাহিক হাটবার এই পৌরবাজারে। পুরো জেলায় লকডাউন চলায় হাট বসার কোনো অনুমোদন না থাকলেও আজ রীতিমতো হাটের চেয়ে বেশি জনসমাগম হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি গেট দিয়ে হাজার হাজার মানুষ এই বাজারে প্রবেশ করছেন, আবার একই গেট দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন। মাঠে অনেক জায়গা থাকলেও একই স্থানে বসে চলছে বেচাকেনা। গায়ে গা লেগে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বেচাকেনা চলছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকদের উৎপাদিত শাক-সবজি, পেঁয়াজ-মরিচসহ অন্যান্য পণ্য এসেছে এই বাজারে। ক্রেতারাও তুলনামূলক সহজলভ্য মূল্যে এসব পণ্য কেনার জন্য দল বেঁধে এসেছেন। ভাইরাসের কোনো ভয়-ভীতিই কারো মধ্যে লক্ষ্য করা যায়নি।

সবাই রমজানের আগাম বাজারঘাট সেরে নিতে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুপুর একটার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা রাজিয়া এবং সহকারি কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান ওই বাজারে গিয়ে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করেন। সামাজিক দূরত্ব বজায়ে রেখে বাজার করার লক্ষ্যে পৌর বাজার এখানে স্থানান্তর করা হলেও মানুষের মাঝে কিছুতেই সচেতনতা দেখা যাচ্ছে না। মানুষ যেন ঈদের আগাম বাজার করতে এসেছেন। যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও হাইওয়েগুলোতে অটোরিকশা ও মোটর সাইকেল অন্যদিনের মত স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে।

উল্লেখ্য, এই উপজেলায় ইতিমধ্যে করোনায় তিনজন আক্রান্ত হয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আইসোলেশন সেন্টারে আছেন। অনেকে ঢাকা নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসেছেন বলে উপজেলা সূত্রে জানা গেছে। সেখানে এই জনসমাগম মানুষকে করোনা ঝুঁকিতে ফেলবে বলে সচেতন মহলের ধারণা।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে দেওয়ানগঞ্জ সহকারী কমিশনার ভূমি মো. আসাদুজ্জামান দৈনিক জার্নাল বাংলাকে বলেন, আমরা এত কিছু করার পরেও জনগণকে কোনভাবেই ঘরে রাখতে পারছি না। তারা অনেকটা অসচেতনভাবে বাজারগুলোতে জটলা করছেন। আমি এখন এই বাজারেই আছি। ইউএনও স্যার আমার সাথেই আছেন। আমরা আমাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!