করোনায় বিশ্বের সবার ওপর অভাবের প্রভাব পড়বে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং দারিদ্র্য করোনাভাইরাস মোকাবেলা আরো কঠিন করে তুলেছে। সে কারণে আমাদের বিশ্বের সামাজিক ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বহু স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিবিদ এমনকি নিউইয়র্কের গভর্নর অ্যান্ড্রু কওমো সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সমতা আনার জন্য করোনাভাইরাস ‘দুর্দান্ত’। এটা তারা এ কারণে বলেছেন যে, করোনাভাইরাস আসলে যে কাউকে কাবু করতে পারে। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের যে কেউ আক্রান্ত হতে পারেন। এটি ধনি-গরিব, ক্ষমতাশালী কিংবা ক্ষমতাহীন বিবেচনা করছে না।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে (ডাব্লিউএইচও) অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণার জবাবে সংস্থাটির প্রধান টেডরস আডহানম ঘেবরেয়েসাস বলেছেন, এই রোগ ধনী দেশ এবং দরিদ্র দেশ, বৃহত্তর জাতি এবং ক্ষুদ্র জাতি কিংবা নৃগোষ্ঠীর মধ্যে বৈষম্য রাখে না। কিংবা মতাদর্শভেদে এর আচরণ ভিন্ন হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেছেন, অল্প বয়সী থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যবানরাও আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। উন্নত দেশগুলোতেই এর প্রকোপ এখন পর্যন্ত বেশি দেখা যাচ্ছে।

কেবল করোনাভাইরাসের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ২২ মিলিয়ন মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। আগেই মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্তদের এক হাজার ডলার বা তারও বেশি করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে। গত সপ্তাহে চাকরিচ্যুত হিসেবে সরকারি সাহায্য পাওয়ার জন্য ৫২ লাখ মানুষ আবেদন করেছে। গত চার সপ্তাহে সেই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই কোটি ২০ লাখ।

এখন পর্যন্ত সারাবিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে ২৯ লাখ ২১ হাজার চারশ ৫৬ জন। তার মধ্যে দুই লাখ তিন হাজার দু’শ ৮৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুই বিশ্বযুদ্ধের চেয়ে বেশি মানুষ করোনাভাইরাসের কারণে মারা যাবে।

আগে থেকেই জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, করোনার চেয়ে অনাহারে মানুষ মারা যাওয়ার শঙ্কা বেশি। করোনা থেকে বাঁচতে পুরো বিশ্বই প্রায় লকডাউনে রয়েছে। এক দেশের সঙ্গে অন্য দেশের বিমান চলাচল কার্যত বন্ধ, আমদানি রপ্তানি একেবারে তলানিতে নেমেছে। প্রবাসী শ্রমিকরাও যার যার দেশে চলে গেছে। এতে করে সেসব দেশের রেমিট্যান্স বন্ধ হয়ে গেছে।

করোনাভাইরাসের কারণে অভাব কী ধরনের আঘাত হানছে তার একটি উদাহরণ হলো- মালাউই সরকার ২১ দিনের জন্য লকডাউন ঘোষণা করেছে। কিন্তু কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাজার হাজার মালিক তাদের কারখানা খোলা রেখেছে। কারণ, কারখানা বন্ধ রাখলে শ্রমিকরা তাদের পরিবার-পরিজনের মুখে আহার তুলে দিতে পারবে না।

লকডাউন তুলে দেওয়ার জন্য সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। অন্যান্য দেশেও লকডাউনের ফলে মানুষের অর্থের এবং খাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লকডাউনের ফলে প্রত্যেক খাতে যেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে, সারাবিশ্বের প্রত্যেককেই করোনার জেরে অভাবের আঁচ লাগবে।

সূত্র : ইনডিপেন্ডেন্ট অস্ট্রেলিয়া

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!