ধামরাইয়ে প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার ধামরাইয়ের চরচৌহাট এলাকার বাদশা মিয়া (৬০) নামে এক বৃদ্ধ ৩৫ বছরের এক শারীরিক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার অভিযুক্ত বাদশা মিয়াকে তার ঘরে তালা দিয়ে ৬ ঘণ্টা আটকে রাখার পর স্থানীয় মাতাব্বররা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, ধামরাইয়ের উত্তর চৌহাট এলাকার এক শারীরিক প্রতিবন্ধী পায়ে হেঁটে সোমবার পাশের চর চৌহাট গ্রামে ফুপা জসিম উদ্দিনের বাড়িতে রওনা দেয়। উত্তর চর চৌহাট এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয় সৌদিআরব প্রবাসী গৃহবধূর স্বামী বাদশা মিয়া ১০ টাকা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ওই প্রতিবন্ধী নারীকে তার নিজের বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাদের এক ঘরে আটক করে। পরে খবর পেয়ে সমাজপ্রধান মাতাব্বর আওলাদ হোসেন ওই অভিযুক্ত বাদশা মিয়াকে তার বাড়িতে ৬ ঘণ্টা তালা লাগিয়ে আটকে রাখেন। এরপর মঙ্গলবার রাতে গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি জুতাপেটার মাধ্যমে মীমাংসা করার আশ্বাস দিয়ে ধর্ষক বাদশা মিয়াকে ছেড়ে দেন। সোমবার বিকালে অভিযুক্ত বাদশা মিয়ার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রতিবন্ধী নারীর মা জানান, বাদশা মিয়া আমার প্রতিবন্ধী মেয়ের ইজ্জত নষ্ট করেছে। আমি এর কঠিন শাস্তি চাই। এ ছাড়া লজ্জায় তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

চৌহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সিকদার বলেন, মাতাব্বর আউলাদ হোসেন ও তার ভাই জামাল উদ্দিন ৫০ হাজাট টাকার বিনিময়ে ধর্ষককে ছেড়ে দিয়েছে। আমরা ধর্ষক ও মাতাবরদের গ্রেপ্তারের দাবি করছি।

এদিকে সমাজ প্রধান মাতাব্বর আওলাদ হোসেন ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, বাদশা মিয়াকে হাতে নাতে আটক করা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু মঙ্গলবার রাতে গ্রাম্য সালিশে জুতাপেটার মাধ্যমে তার বিচার করা হবে বলে বাদশা মিয়াকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, ধর্ষণের ঘটনা কোন মতেই গ্রাম্য সালিশে মিমাংসাযোগ্য নয়, প্রচলিত আইনেই এর বিচার হওয়া উচিত। বিষয়টি আজ রাতেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

জার্নাল বাংলা/সাবা

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!