নারায়ণগঞ্জের ৫ শতাধিক করোনা রিপোর্ট আটকে যাওয়ার অভিযোগ

ইসমাইল হোসেন মিলন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরীক্ষার জন্য নারায়ণগঞ্জ জেলা থেকে পাঠানো ৫ শতাধিক নমুনার রিপোর্ট আইইডিসিআরে আটকে রয়েছে। গত চার দিনের পাঠানো নমুনার একটি রিপোর্টও আসেনি বলে জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। যার ফলে গত চব্বিশ ঘণ্টায় জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যায় কোন হেরফের হয়নি। গত শনিবার জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬২৫ জন। আক্রান্তের সংখ্যা পালাক্রমে বেড়েই চলছে।

জেলা স্বাস্থ বিভাগ প্রতিদিন সকালে করোনাভাইরাস সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। মোট মৃত্যু, আক্রান্ত, সুস্থ এবং চব্বিশ ঘণ্টার সর্বশেষ একটি পরিসংখ্যান থাকে ওই প্রতিবেদনে। গতকাল সকালে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রকাশিত করোনাভাইরাস সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, আগের দিনের তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৬২৫ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২৫ জন।

জানা যায়, জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করে। এছাড়া করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত নারায়ণগঞ্জ ৩শ’ শয্যা হাসপাতালেও নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এসব নমুনা ঢাকায় জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়। তবে গত চার দিনের পাঠানো ৫ শতাধিক নমুনার কোন রিপোর্ট জেলায় পাঠানো হয়নি। এদিকে গত চব্বিশ ঘণ্টায় পাঠানো হয়েছে আরও ২২৪ জনের নমুনা।

জানতে চাইলে জেলা করোনাবিষয়ক ফোকাল পারসন সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম বলেন, গত চার দিনের (২১-২৪ এপ্রিল) পাঠানো নমুনার করোনা টেস্টের কোন রিপোর্ট আইইসিডিআর থেকে পাইনি। ৫ শতাধিক নমুনা রিপোর্ট না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণও কেউ বলছে না।

এদিকে করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়াতে বিপাকে পড়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। নমুনা দেয়া লোকজন ফোন করে তাদের রিপোর্ট জানতে চাইলেও তা জানাতে পারছেন না বলে জানালেন ডা. জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, রিপোর্ট আটকে থাকায় বিপাকে পড়েছি। প্রতি মুহূর্তে মানুষ ফোন করে রিপোর্টের জানতে চাচ্ছে। রিপোর্ট না পেয়ে লোকজন হতাশ হয়ে উল্টো-পাল্টা মন্তব্য করছে।

একই কথা বললেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজও। তিনি বলেন, গত চার দিনে পাঠানো ৫ শতাধিক নমুনার ফলাফল পাচ্ছি না। ঢাকায় কথা হয়েছে। কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে তারা রিপোর্ট পাঠাতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সন্ধ্যায় জানতে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইমতিয়াজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার কাছে কোন রিপোর্ট আসেনি।

এদিকে একটি সূত্র বলছে, উপসর্গ থাকা ব্যক্তিদের করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি কাজে হযবরল অবস্থা দেখা দিয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল থেকে নারায়ণগঞ্জ নগরীর দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নমুনা সংগ্রহ করছে বেসরকারি সংস্থা জেকেজি। তবে তাদের সঙ্গে সমন্বয় নেই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের। এমনকি জেকেজি’র নমুনা সংগ্রহের বিষয়ে কোন তথ্যও নেই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে। কেবল রিপোর্ট জানতে পারছে তারা। ফলে জেলায় নমুনা সংগ্রহ এবং আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কাছাকাছি থাকায় জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। যার উপযুক্ত কোন ব্যাখ্যাও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন বলেন, জেকেজি তাদের নমুনা সংগ্রহ করে আমাদের কাছে দেয় না। তারা সরাসরি ল্যাবে পাঠায়। তাদের বিষয়ে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই।

জার্নাল বাংলা/সাবা/মিলন

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!