নারায়ণগঞ্জ করোনার নমুনা সংগ্রহ নিয়ে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ জেকেজির বিরুদ্ধে

ইসমাইল হোসেন মিলন, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

দেশে করোনাভাইরাসের হটস্পট হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জে এখন বড় চ্যালেঞ্জ আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা।

কিন্তু এখানে করোনা উপসর্গে ভোগা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ নিয়ে চরম স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে।

জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (জেকেজি) নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নমুনার সংগ্রহ শুরু করে থেকে রিপোর্ট প্রদান পর্যন্ত নানা অভিযোগ সাধারণ মানুষের।

বিশেষ করে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ায় বেসরকারি এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই জেলা প্রশাসন কিংবা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে।

বিশৃঙ্খল পরিবেশের কারণে প্রতিদিন শত শত রোগী এসে ফিরে যাচ্ছেন। পাশাপাশি নমুনা সংগ্রহের স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় না থাকায় সেখান থেকেও করোনা সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

জানা গেছে, সরকারের সরাসরি নির্দেশনায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল ও সিদ্ধিরগঞ্জ এম ডব্লিউ কলেজে দুটি কেন্দ্র খুলে জোবেদা খাতুন সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (জেকেজি) নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

করোনা উপসর্গ রয়েছে এমন রোগীদের নমুনা সংগ্রহ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কার্যক্রম শুরুর মাত্র ৪ দিনের মাথায় এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের বিষয়ে কিছুই জানেন না নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন অফিস কিংবা জেলা প্রশাসক। এমনকি ওই প্রতিষ্ঠানের সংগৃহীত নমুনা সিভিল সার্জন অফিসের মাধ্যমে ঢাকায় না পাঠিয়ে তারাই সরাসরি পাঠিয়ে থাকেন। ফলে সংগৃহীত নমুনা কোথায় কার কাছে কীভাবে পাঠানো হচ্ছে, তার কিছুই জানে না সিভিল সার্জন অফিস।

গত বুধ, শনি ও সোমবার নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুলে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, স্কুলটির বাইরে ৩-৪শ’ জনের জটলা। সবাই স্কুলের ভেতরে প্রবেশ করতে চাচ্ছেন।

সবাই করোনা রোগের উপসর্গ নিয়ে এখানে নমুনা দিতে এসেছেন। কিন্তু তাদের বেশির ভাগই হতাশ হয়ে ফিরছেন। আর যারা নমুনা দেয়ার জন্য স্লিপ হাতে পেয়েছেন তারাও ২-৩ দিন আগে এই স্লিপ পেয়েছেন।

স্কুলের বাইরে প্রতিষ্ঠানটির টানানো ব্যানারে লেখা রয়েছে- বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরতরা শুরুর দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত সঠিক সময়ে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করতে পারেননি। অথচ বাইরে অপেক্ষমাণ অসুস্থ রোগী।

যাদের সবারই রয়েছে করোনার উপসর্গ। অভিযোগের বিষয়ে জানতে সেখানে জেকেজির দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এই প্রতিবেদক। কিন্তু কেউ কোনো মন্তব্য করেননি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, এরা কাদের অনুমতি নিয়ে কাজ শুরু করেছে, কীভাবে কাজ করছে, তার কিছুই আমরা জানি না।

এমনকি তারা তাদের সংগৃহীত নমুনা আমাদের মাধ্যমে (সিভিল সার্জন অফিস) ঢাকায় পাঠায় না। ফলে তারা তাদের সংগৃহীত নমুনা কোথায় পাঠায় আমরা সেটি বলতে পারব না।

জেলা করোনা সমন্বয় কমিটির ফেলো পারসন ডা. জাহিদ বলেন, নমুনা রিপোর্ট সিভিল সার্জন অফিসে প্রেরণ করার কথা থাকলেও তারা সেটি প্রেরণ করছেন না। আমরা প্রতিদিন বহু ফোন পাচ্ছি। ভুক্তভোগীরা বলছেন রিপোর্টের কাগজ রোগীদের হাতে দেয়া হচ্ছে না।

আবার আমরা ফোন করলে বলা হচ্ছে আমাদের অফিসে প্রেরণ করা হচ্ছে। অনেক রোগীর অভিযোগ, ফোনে ফলাফল বলা হলেও পরে ওই ফোনে কল করলেও সেটি রিসিভ করা হয় না।

যোগাযোগ করা হলে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, তাদের ব্যাপারে শুনেছি। কিন্তু কাদের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে তারা কাজ শুরু করেছে তা জানি না। এ বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।

জার্নাল বাংলা/অর্ণব/মিলন 

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!