সাভারে রাস্তা আটকে পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ

বাবলু ইসলাম অর্ণব

ত্রাণ সহায়তা, শ্রমিকদের কল্যাণের নামে বিভিন্ন শ্রমিক-মালিক সমিতির ব্যানারে চাঁদা আদায় বন্ধ ও অবিলম্বে গণপরিবহন চালুসহ তিন দফা দাবিতে সাভারে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক শ কর্মহীন পরিবহন শ্রমিক।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে প্রায় ৪০০ পরিহন শ্রমিক। এ সময় শ্রমিকরা সড়কে বসে তিন দফা আদায়ে স্লোগান দিতে থাকে। পরে পুলিশ ও পরিবহন মালিক পক্ষের আশ্বাসে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা সড়কে অবস্থানের পর এলাকা ত্যাগ করে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, করোনার কারণে এক মাসের বেশি হলো তাদের পরিবহনগুলো সড়কে চলতে দেওয়া হচ্ছে না। অঘোষিত লকডাউনের মধ্যেও গার্মেন্ট, বাজার, দোকান-পাট ছোটখাটো পরিবহনসহ সবকিছু চলছে, কিন্তু তাদের পরিবহন চলছে না। বর্তমানে তারা খেয়ে না-খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। হয় তাদের পরিবহন সড়কের চলতে দেওয়া হোক, নয়তো তাদের খাবারের ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক।

পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, করোনা সংক্রমণ ঝুঁকির মধ্যে সবচেয়ে অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। গত প্রায় এক মাস কর্মহীন অবস্থায় থাকলেও তাদের কোনো প্রকার ত্রাণ সহায়তা প্রদান করেনি কেউ। এতে পরিবার নিয়ে চরম উৎকণ্ঠা ও হতাশা নিয়ে অসহায় দিন পার করছেন তারা। তাই ত্রাণ সহায়তা, শ্রমিকদের কল্যাণের নামে বিভিন্ন শ্রমিক-মালিক সমিতির ব্যানারে চাঁদা আদায় বন্ধ ও অবিলম্বে গণপরিবহন চালুসহ তিন দফা দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এ সময় পরিবহন মালিকরা যতক্ষণ উপস্থিত না হয়ে তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেবেন ততক্ষণ সড়ক থেকে সরে না যাওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন শ্রমিকরা।

সাভার পরিবহনের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বলেন, গণপরিবহন চালুসহ তিন দফা দাবিতে সড়কে অবস্থানরত শ্রমিকদের সাথে আলোচনার পর তারা সড়ক ছেড়ে চলে যায়।

সাভার মডেল থানার এসআই কাদের মোল্লা জানান, মূলত করোনা সংকটের মাঝে কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকরা কোনো প্রকার সাহায্য না পেয়ে সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তিনি আরো বলেন, এসব শ্রমিকদের এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে পরিবহন মালিকদের তাদের পাশে থাকার প্রয়োজন ছিল। তাই কষ্টে থাকা এসব শ্রমিকদের সহযোগিতার জন্য পরিবহন মালিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে চলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

জার্নাল বাংলা/সাবা/অর্ণব

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!