করোনায় মৃত পুলিশকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

নিজস্ব প্রতিনিধি

ঢাকায় দায়িত্ব পালনকালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী ট্রাফিক পুলিশ সদস্য আশেক মাহমুদকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদর্শন ও আইইডিসিআরের নিয়ম অনুসরণ করে জানাজা শেষে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে তার গ্রামের বাড়ি জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়া কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশের একটি বিশেষ পিকআপভ্যানে করে বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশ সদস্য আশেক মাহমুদের মরদেহ জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ঝাউগড়ায় তার গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এ সময় স্থানীয় কবরস্থানে জামালপুরের পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদর্শন করেন।

পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে আইইডিসিআরের নিয়ম অনুসরণ করে জানাজা শেষে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল ইসলাম খানসহ পাঁচজন পুলিশ সদস্য ওই কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করেন। এ সময় মৃতের আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। পুলিশ সদস্য আশেক মাহমুদ স্ত্রী ও দুই ছেলেসহ অনেক আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন।

পুলিশ সদস্য আশেক মাহমুদের বড় ভাই মো. রফিকুল ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রীয় কাজে কর্মরত থেকে জনগণের সেবা করতে গিয়ে তার ভাই মৃত্যুবরণ করেছেন। তার শোকার্ত বিধবা স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান তিনি।

পুলিশ সুপার মো. দেলোয়ার হোসেন দৈনিক জার্নাল বাংলাকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণ মোকাবেলায় জনগণের খেদমত করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন পুলিশ সদস্য আশেক মাহমুদ। শোকার্ত পরিবারটির পাশে সব সময় থাকবে জেলা পুলিশ। আমরাই তার পরিবারের সদস্যদের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবো।’

প্রসঙ্গত, ঢাকায় কর্মরত অবস্থায় ট্রাফিক পুলিশ সদস্য আশেক মাহমুদের করোনার উপসর্গ দেখা দেয়। গত সোমবার তার নমুনা পরীক্ষায় করোনা পজেটিভ আসে। ওই দিনই চিকিৎসার জন্য তাকে রাজারবাগ পুলিশ হাপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান তিনি।

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!