সরকারি অনুদান নেবে না কওমি মাদরাসাগুলো

নিজস্ব প্রতিনিধি

সরকারি অনুদান না নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কওমি মাদরাসা বোর্ড – বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ (বেফাক)।

শনিবার সরকারি অনুদান বিষয়ে বেফাকের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মজলিসে খাসের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বেফাকের সিনিয়র সহসভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) হযরত মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস সাহেব।

সভায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্ত হয় যে, সরকারি অনুদান গ্রহণ, কওমি মাদরাসার দেড়শত বছরের ইতিহাস ঐতিহ্য এবং দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি আদর্শকে বিসর্জন দেয়া। তাই এধরনের অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকার জন্য সকল কওমি মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি আহবান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি পবিত্র রমজান উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ছয় হাজার ৯৫৯টি কওমি মাদ্রাসাকে আট কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা ঘোষণা দেন।

বেফাক নেতৃবৃন্দ বলেন, উপমহাদেশব্যাপী বিস্তৃত কওমি মদরাসাসমূহ ভারতের বিখ্যাত দারুল উলূম দেওবন্দের নীতি-আদর্শ ও শিক্ষাক্রম অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে আসছে। দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠাকালে অলঙ্ঘনীয় যে ‘উসূলে হাশতেগানা’ তথা আট মূলনীতি নির্ধারণ করে, তার অন্যতম একটি হলো ‘যে কোনো পরিস্থিতিতে সরকারি অনুদান গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। সুতরাং এই মূলনীতিকে বিসর্জন দিয়ে দেশের কোনো কওমি মাদরাসা সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারে না। অতীতেও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কঠিন সংকটকালীন সময়ে আমাদের পূর্বসূরিরা অনুদানের জন্য সরকারের দ্বারস্থ হননি।

তারা আরো বলেন, এই উপমহাদেশে ইসলাম, মুসলমান তথা দ্বীনের হেফাজতের জন্য আকাবির ও আসলাফগণ এক কঠিন পরিস্থিতিতে যে ৮ মূলনীতির উপর ভিত্তি করে দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার হুবহু ঐ মূলনীতিসমূহের ভিত্তিতেই কওমি মাদরাসার সনদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্বীকৃতি সংক্রান্ত আইনের ২(১) ধারায় কওমি মাদরাসার সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- মুসলিম জনসাধারণের আর্থিক সহায়তায় উলামায়ে কেরামের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ইলমে ওহীর শিক্ষা কেন্দ্রই হলো কওমি মাদরাসা। তাই ঐতিহাসিক সেই মূলনীতি এবং কওমী মাদরাসার সংজ্ঞাকে উপেক্ষা করে আমরা কোনোভাবেই সরকারি অনুদান গ্রহণ করতে পারি না।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, কওমি মাদরাসার দায়িত্বশীলদের প্রতি বিশেষ আহ্বান, ক্ষণিকের সঙ্কট উত্তরণে সরকারি অনুদান গ্রহণ করে অনন্তকালের কুদরতি সাহায্যের রাস্তা বন্ধ করবেন না। আল্লাহ পাকের উপর দৃঢ় ভরসা রাখুন, করোনার মহামারি থেকে বিশ্ববাসী ও মুসলিম উম্মার মুক্তির জন্য দোয়া জারি রাখুন। সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা’আলা আমাদের হেফাজত করবেন, ইনশাল্লাহ।

বৈঠক থেকে বেফাকের সম্মানিত সভাপতি আল্লামা আহমদ শফির সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই সিদ্ধান্তকে অনুমোদন করেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন- মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজ্জী, মাওলানা আব্দুল হামিদ (পীর সাহেব মধুপুর), মাওলানা ছফিউল্লাহ, হযরত মাওলানা মাহফুযুল হক, মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, মাওলানা মুফতি নূরুল আমিন, মাওলানা মনিরুজ্জামান।

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!