জনগণের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়: ফখরুল

অর্থনেতিক চাকা সচল রাখতে জনগণের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা রাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে বাঁচিয়ে রেখেই সবকিছু করা। এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শপিংমল খোলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘শুনলাম এক জায়গায় বলছে-এগুলো খুলবে না কেন? শপিংমল খুলবে না কেন? অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডতো চালু রাখতে হবে। বাট, সেটি কি জনগণের জীবনের মূল্যে, জনগণকেই তো বাঁচিয়ে রেখেই আপনি সবকিছু করবেন, এটাই তো রাষ্ট্র।’

মঙ্গলবার (০৫ মে) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে চলমান করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব‌্য রাখেন ফখরুল।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাদের দূরদৃষ্টি একেবারেই নেই। রাষ্ট্র পরিচালনায় যে প্রজ্ঞা, তাদের সেই প্রজ্ঞারও অভাব। চরম উদাসীনতা, দাম্ভিকতা, অহংকার ছাড়া তাদের কিছুই নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা, অদূরদর্শিতা, অদক্ষতা, অযোগ্যতা, সিদ্ধান্তহীনতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব ও দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, দুর্নীত, অস্বচ্ছতা, চরম ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি ও জনগণের প্রতি জবাবদিহিতার প্রকট অভাব এ সংকট গভীরতর করছে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতিতে রোগ পরীক্ষার মূল সমন্বয়ের দায়িত্ব থেকে আইইডিসিআরকে সরিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। হঠাৎ পরীক্ষার দায়িত্বে বড় পরিবর্তনকে ঝুঁকিপূর্ণ, পরিকল্পনার অভাব এবং সমন্বয়হীনতার জের বলে আখ্যায়িত করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইতোমধ্যে দুইজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক করোনায় মারা গেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরদিকে পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ন্যূনতম সুরক্ষা সামগ্রী নিয়েই সামনের সারিতে দেশের চিকিৎসক ও পুলিশ বাহিনী।

স্বাধীন মত প্রকাশে বাধা, স্বচ্ছতার অভাব, তথ্যের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রকৃত তথ্য প্রকাশিত না হওয়ায় করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোটি কোটি মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্ন করার সুযোগ বন্ধ করায় সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বেড়েছে।

জার্নাল বাংলা/সাইফুল

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!