বেলুচিস্তানে গুলি-বোমা, ৭ পাকিস্তানি সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে পৃথক দুটি হামলায় দেশটির অন্তত সাত সেনা সদস্য নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার পাকিস্তানের সেনা কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, বেলুচিস্তানের বোলান এলাকায় রাতে সেনা সদস্যদের বহনকারী একটি টহল গাড়ি লক্ষ্য করে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটালে ছয় সেনা নিহত হয়। এ ঘটনায় আরো চারজন সেনা সদস্য আহত হয়। এছাড়া আর অপর এক হামলায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় আরো এক সেনা নিহত হয়।

বিচ্ছিন্নতাবাদী ইউনাইটেড বালুচ আর্মির মুখপাত্র মুরিদ বালুচ এই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, যে এই অঞ্চলে তেল ও গ্যাস উত্তোলনে নিযুক্ত সংস্থার ইঞ্জিনিয়ারদের সুরক্ষার জন্য নিয়োজিত পাকিস্তানি সেনাদের লক্ষ্য করে তারা এই হামলা চালিয়েছে।

জেলা প্রশাসক বোলন মুরাদ কাসি গণমাধ্যমকে বলেছেন,’রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে ফ্রন্টিয়ার কর্পসের ছয় সদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দফতর (আইএসপিআর) থেকে জানানো হয় সোমবার রাতে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটা থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে পির ঘাইব এলাকায় সেনা বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। নিয়মিত টহল ডিউটি শেষে এসব সেনারা ঘাঁটিতে ফিরছিলো বলে জানানো হয় ওই বিবৃতিতে। এই হামলায় ছয় সেনা নিহত হয়।

এদিকে সোমবার পৃথক আরেক ঘটনায় প্রদেশের মান্দ এলাকায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় এক সেনা নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের আইএসপিআর। এ মাসের শুরুতে বেলুচিস্তানে আরেক হামলায় পাকিস্তানের ছয় সেনা নিহত হয়। ওই হামলার দায় স্বীকার করে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত হয় বেলুচিস্তান। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর এই অঞ্চলে একটি প্রাদেশিক সরকার রয়েছে। তবে জম্মু-কাশ্মিরে যেমন করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রবল উপস্থিতি রয়েছে, বেলুচিস্তানেও তেমনি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী কার্যত ভিনদেশি আগ্রাসী বাহিনীর মতো করে দমননীতি জারি রেখেছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রাদেশিক সরকারের তেমন কোনও অবস্থান নেই। ভারত-শাসিত কাশ্মিরিদের মতো করেই সেখানে বেলুচ বংশোদ্ভূত আদি জনগোষ্ঠীর মানুষেরা দীর্ঘদিন ধরেই স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে আসছে। বেলুচদের স্বাধীনতার আন্দোলনকে বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখে আসছে পাকিস্তান।

সূত্র- এমআইএ।

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!