চরম ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে পদ্মা পাড়ি

বিশেষ প্রতিনিধি

শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌ-রুটে জনসমুদ্র এড়াতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফেরি সার্ভিস বন্ধ করলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকালি বাহিনীর চোখ এড়িয়ে অবৈধ ট্রলারে চড়ে জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে পদ্মা নদী পাড়ি দিচ্ছেন যাত্রীরা। পুরাতন মাওয়া ঘাট থেকে ট্রলারগুলো ছেড়ে এসে ২ দফা চরে নেমে ভিড়ছে কাঠালবাড়ি ঘাটের দূরবর্তী স্থানে পদ্মা সেতুর কাছে। এতে যাত্রীপ্রতি খরচ হচ্ছে ৫-৬ শ টাকা। শারীরিক দূরত্ব তো দূরে থাক মানা হচ্ছে না কোনো আইনও।

সরেজমিনে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে প্রশাসনিক তৎপরতা কমায় শিমুলিয়া-কাঠালবাড়ি নৌ-রুটের ফেরিগুলোতে ছিল উভয়মুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। ফেরি চলাচল সীমিত থেকে বাড়িয়ে ১২টি সচল করতে বাধ্য হয় বিআইডাব্লিউটিসি। গত ২/৩ দিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ভিড় বেড়েই চলছিল। রবিবার রাত থেকে আবারো সীমিত করে মাত্র ৪টি ফেরি চালু রাখে বিআইডাব্লিউটিসি। সোমবার সকালে এ রুট হয়ে যাত্রীদের ঢল নামে। একপর্যায়ে এ ঢল জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বাধ্য হয়ে সবক’টি ফেরি চালু করে শুধু যাত্রী পারাপার করা হয়। বিকেলেই সকল ফেরি বন্ধ করা হয়।

মঙ্গলবার সকাল থেকে কোনো ধরনের পরিবহন ও যাত্রী পার হতে দেয়নি পুলিশ। এ সুযোগে দুপুরের দিক থেকে শিমুলিয়ায় স্থান পরিবর্তন করে পুরাতন মাওয়া ঘাট থেকে অবৈধ ট্রলার ছেড়ে আসা শুরু করে। প্রতিটি ট্রলারেই ছিল উপচে পড়া যাত্রী। ট্রলারগুলো মাওয়া থেকে ছেড়ে জাজিরা, শিবচরের চরগুলো ব্যবহার করে ২ দফা ট্রলার পরিবর্তন করে পদ্মা সেতুর কাছে শিবচর ও জাজিরার সীমানায় বুড়ার খেয়াঘাট এলাকাগুলোতে যাত্রী নামায়। যাত্রীপ্রতি ৫ থেকে ৬ শ টাকা খরচ হয়। এখান থেকে পরে ইজিবাইক-মোটরসাইকেলে চড়ে বরিশাল, খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোতে ৫/৬ গুণ ভাড়া খরচ করে ছুটছে মানুষ।

বিআইডাব্লিউটিসির কাঠালবাড়ি ঘাট ম্যানেজার আ. আলিম মিয়া বলেন, যাত্রীদের যে চাপ পড়ে তাতে ফেরিতে কোনো গাড়িই নেওয়া যায় না। স্বাস্থ্যবিধির এখানে কোনো পাত্তাই নেই। সহকারী পুলিশ সুপার আবির হোসেন বলেন, লকডাউন ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ফেরি বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই কাউকে ওপারে যেতে দেব না।

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!