দিল্লীর দিকে এগোচ্ছে পঙ্গপাল! পথে যা পাচ্ছে সাবাড় করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পঙ্গপালের কোন রাজা নেই, কিন্তু এ বিশাল সৈন্যবাহিনী একসঙ্গেই চলাফেরা করে। চলতি মাসের শুরুতে এ বাহিনী ঢুকেছিল রাজস্থানে। অর্ধেক ফসল নষ্ট করে তারা এখন যাচ্ছে দিল্লীর দিকে। যোধপুরভিত্তিক পঙ্গপাল সতর্ককারী সংস্থার (এলডব্লিউও) উপপরিচালক কেএল গুরজার বলেন, ‘২০১৯ সালে পরিপক্ক হলুদ রংয়ের পঙ্গপাল পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রজণন করেছিল। তাদেরই বংশ থেকে এসেছে গোলাপি রংয়ের একদল পঙ্গপাল। এরা আগেরগুলোর চেয়ে আরো বেশি সাবাড় করে।’

২০১৯ সালে রাজস্থানের ১২ জেলায় পঙ্গপাল হানা দিয়ে ৬ লাখ ৭০ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট করে। ওই বছর ১ হাজার কোটি রুপির আর্থিক ক্ষতি হয়। এবার পরিস্থিতি মোকাবেলায় রাজ্যের কৃষিবিভাগ ৪৫ টি পিকআপ, ৭০ টি যান দিয়ে পরিস্থিতি মনিটরিং করছে এবং ৬০০ ট্রাক্টর দিয়ে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে কীটনাশক ছিটাচ্ছে। তারা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ড্রোন চেয়েছে পঙ্গপাল দমনের জন্য।

রাজস্থানের অনেক এলাকা সাবাড় করে পঙ্গপাল এখন ছুটে চলেছে হরিয়ানার দিকে। এদিকে জায়সালমার থেকে আসা আরেকটি বাহিনী ঢুকেছে মধ্যপ্রদেশের উজায়ান এলাকায়। গুজরাটের বানাসকাথা এলাকাও আক্রান্ত হয়েছে পঙ্গপালের হানায়। রাজস্থানের কৃষক নেতা রামপাল জাট বলেন, ‘নতুন আবাদ করা তুলা ও চীনাবাদাম নষ্ট করে ফেলছে পঙ্গপাল। এগুলো এ মৌসুমের অর্থকারী ফসল। যদি এদের রাজস্থানে নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তবে এরা এক সপ্তাহের মধ্যে দিল্লী পৌঁছে যাবে।’

কৃষকদের নিয়ে কাজ করা একজন সমাজকর্মী রামানদিপ সিং মান বলেন, ‘ আমি মনেকরতে পারছি না দিল্লী সর্বশেষ কখন পঙ্গপালের আক্রমণের শিকার হয়েছিল। তবে এবার যে বাহিনী ঢুকেছে তারা ২০১৯ সালের দলটির চেয়ে তিনগুণ বড়। তারা রাজস্থানে যা পেয়েছে তাতে পেট ভরেনি। এখন রাজস্থান ও হরিয়ানা সীমান্ত অঞ্চলে পৌঁছে গেছে। অগ্রবর্তী এ দলটির পেছনে আরো কয়েকটি বাহিনী আসছে যারা হরিয়ানা পার হয়ে দিল্লীতে হানা দিতে পারে।’

সূত্র: টাইমসনাওনিউজ

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!