বাউফলে এমপি ও মেয়র গ্রুপের সংঘর্ষে নিহত ১

জার্নাল বাংলা ডেস্ক

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাউফল পৌর শহরে থানার সামনে আজ রবিবার দুপুরে এমপি ও মেয়র গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দুইপক্ষের প্রায় ১৫ জন। আহতদের মধ্যে তাপসকে (২৫) নামের এমপি সমর্থিত কর্মী বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে(শেবাচিম) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১টার সময় পৌর শহরের জেলা পরিষদের ডাক বাংলোর সামনে বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক জুয়েলের পক্ষে করোনাভাইরাসের সংক্রমনরোধে প্রচারের জন্য একটি তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছিল। এ সময় এমপি আসম ফিরোজ গ্রুপের পৌর শাখার আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নাজিরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইব্রাহিম ফারুক তাঁর সাঙ্গপাঙ্গ নিয়ে তোরন নির্মাণে বাধা দেন। খবর পেয়ে মেয়র জিয়াউল হক জুয়েল ঘটনাস্থলে আসেন। জুয়েল এবং ফারুকের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এতে দুইপক্ষের নেতাকর্মীরা মারমুখি হয়ে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় লিপ্ত হয়। দুপুর ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে খবর পেয়ে ওই উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন, বাউফল সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার মো. ফারুক হোসেনের মধ্যস্থতায় জুয়েল ও ফারুককে নিয়ে ওসির রুমে সমযোতার সভা চলছিল। খবর পেয়ে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও কালাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনির মোল্লা আড়াই কিলোমিটার দূরে কালাইয়া থেকে আসেন। এ সময় তিনি প্রায় ২৫থেকে ৩০ জন অনুগত লোকজন নিয়ে ফারুকের পক্ষে থানার সামনে এসে জড় হন এবং শ্লোগান দেন। একপর্যায়ে নির্মাণাধীন তোরণের বাঁশ খুঁটি উপরে ফেলেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে মেয়র গ্রুপে কর্মীরা এমপি গ্রুপকে ধাওয়া করলে তারা ডাকবাংলোর মধ্যে আশ্রয় নেয়।

এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। তখন এমপি গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মী তাপস দাস ছুরিকাহত হয়ে গুরুত্বর আহত হন। প্রথমে তাপসকে বাউফল এবং পরর্বতীতে শেবাচিমে পাঠানো নেওয়া হয় এবং ওখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাপস মারা যান। কয়েক দফা সংর্ঘষে দুইপক্ষের ১৫জন আহত হন। বর্তমানে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরর্বতী পরিস্থিতি মোকাবেলায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এ ব্যাপারে বাউফল পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হক জুয়েল বলেন, শহরের পরিবেশ অশান্ত করতেই ইব্রাহিম ফারুকে নেতৃত্বে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সংম্বলিত করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে তোরণ নির্মাণকালে বাঁধা দেয়া হয়। তোরণের মালামাল ভাঙচুর করা হয়। আজকের পুরো ঘটনার জন্য এমপি আ স ম ফিরোজ সাহেবের অসুস্থ এবং অশান্ত রাজনীতি দায়ী। আমি ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি দাবি করছি।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাপস মারা গেছেন। ইতিমধ্যে আাসমি গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!