ফুলছড়ির বোয়ালী ব্রীজ এখন মরন ফাঁদ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি : গাইবান্ধার- ফুলছড়ি উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের পূর্ব বোয়ালী গ্রামে একটি মাত্র সেতু সেটি গত ৪ বছর আগে এক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় । ওই সেতুটি অনেক দিন চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে থাকলেও সরকারী বা নির্বাচিত জন প্রতিনিধের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি কোন ব্যবস্থা। তবে এলাকার সচেতন নাগরিক ব্যাক্তিগত উদ্যোগে সেতুর পাশে তৈরি করা একটি বাঁশের সাঁকো। যা দিয়ে প্রতিদিন জিবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে দুই উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ।

ঝুকি পূর্ন সেতুটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারী যানবাহন তো দূরের কথা মোটর সাইকেল কিংবা বাইসাইকেল, রিকশা ও ভ্যানও ভালো ভাবে যাতায়াত করতে পারছে না এই পথে। সেতুটির এক পাশের মাটি ধসে যাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হালকা এসব যানবাহন চললেও গত ২৪ মে একটি অটো ভ্যান গাড়ি বাঁশের সাঁকো ভেঙ্গে ধান বোঝাই ভ্যান গাড়ি পানিতে পড়ে যায়।অটো ভ্যান গাড়ির চালক প্রাণে বেচে গেলেও গুরুতরো অসুস্থ হয়।

গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ৩০ জুলাই রাতে ফুলছড়ির সিংড়িয়ায় ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পানির প্রবল স্রোতে সেতুটির নিচের মাটি ক্ষয়ে যাওয়ায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিচের মাটি ক্ষয়ে যাওয়ায় ২০১৭ সালের ২০ জুন সেতুটি দক্ষিণ দিকে বেশি পরিমাণে হেলে গেলে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত এ সেতুর পাশে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। এ পথে চলাচলকারী পশু চিকিৎসক আব্দুর রাজ্জাক বলেন আগে সহযে ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল করা যেতো আর এখন আমাকে বাড়িতে আসতে হলে অনেক পথ ঘুরে আসতে হয়। আরেক পথচারী বাবলু মিয়া জানায়, আগে সেতুর ওপর দিয়ে খুব সহজেই চলাচল করতে পেরেছি। গাইবান্ধা গেলে রাত হলে আমরা বোর্ড বাজার পুলিশ লাইন দিয়ে বোয়ালি হয়ে র্নিভয়ে বাড়ি আসতে পারতাম। কিন্তু এখন সেতু না থাকায় এখন সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় বিপদে পড়তে হচ্ছে। সবচেয়ে বড় বিপদে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। কালির বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন আমরা আগে শহর থেকে অতি সহজে পন্য পরিবহন করতে পারতাম ও ক্যরিং খরচও কম লাগতো। সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই পিকআপতো দূরের কথা ভ্যানে করে মালা মাল আনা হচ্ছে। ভ্যানে করে পরিবহন করতে বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। অটোবাইক চালক মনু মিয়া বলেন, সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই এ পথে মানুষের চলাচল কমে গেছে। বেশি টাকা ও সময় লাগলেও মানুষ অন্য পথে বেশি এলাকা ঘুরে চলাচল করছে। এ পথে চলাচল করতে গিয়ে কষ্ট পেতে হচ্ছে গর্ভবতী নারী ও অসুস্থ মানুষকে।

উদাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, বর্তমানে সাঁকো দিয়ে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করতে না পারায় চরম ভোগান্তির স্বীকার হতে হচ্ছে সদর ও ফুলছড়ি উপজেলার মানুষদের। এখানে একটি নতুন সেতু নির্মান করা অতি জরুরী। বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন বৈঠকে আলোচনা হলেও কোনো কাজ হচ্ছে না।

ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি.এম সেলিম পারভেজ বলেন, ওই সড়কটি দিয়ে শহরমুখী আমার উপজেলার ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষকে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত সেতুটি আমার এলাকার বাইরে হওয়ায় আমি তেমন কোন উদ্যোগ নিতে পারছি না। সেতুটি সদর উপজেলার সীমান্তে হওয়ায় নির্মাণে গাফিলতি করা হচ্ছে।আর এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন পথচলা হাজারো মানুষের মনে একটাই প্রশ্ন শেষ হবে কি অপেক্ষার প্রহর,মিলবে কি নতুন সকাল। তবুও স্বপ্ন দেখে সাধারন জনগন অতি তারাতারি নতুন সকালে মিলবে নতুন আলো।

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!