লোহাগড়া লাশ কাঁধে ঝাড়ু মিছিল

জার্নাল বাংলা ডেস্ক

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার গন্ডব গ্রামে আধিপত্য বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হবার ঘটনায় গ্রামবাসী ও নিহতের স্বজনরা লাশ কাঁধে নিয়ে শহরে ঝাঁড়ু মিছিলসহ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ২টার দিকে লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ অফিসের সামনে ও লক্ষীপাশা বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে ওই তিনজন হত্যার জন্য সিআইডির (ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট) ফরেনসিক শাখার ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম ও তার ভাতিজা ইয়াবা কারবারি সুলতান মাহমুদ বিপ্লবসহ দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়েছে।

গ্রামবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাশিপুর ইউনিয়নের গন্ডব গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে মিরাজ মোল্যা ও সুলতান মাহমুদ বিপ্লবের নেতৃত্বাধীন দুটি গ্রুপের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে উভয় গ্রুপ বুধবার দুপুর ৩টার দিকে ঢাল, সড়কি, রামদাসহ নানা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গন্ডব গ্রামের গো-হালটে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের কোপে ওই গ্রামের মনতাজ মোল্যার ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে হাবিল মোল্যা (৫২), মৃত মাজেদ মোল্যার ছেলে মোক্তার মোল্যা (৫৮) ও সাইফার মোল্যার ছেলে রফিক মোল্যা (৫০) নিহত হন।

নড়াইল সদর হাসপাতালে নিহতদের লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে লাশ লোহাগড়া শহরে আনা হয়। পরে উপজেলা পরিষদের সামনে ও ভেতরে গ্রামবাসীসহ নিহতের স্বজনরা ঝাঁড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এ সময় বক্তব্য রাখেন উপজেলা চেয়ারম্যান সিকদার আব্দুল হান্নান রুনু, কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান। গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেন, ইয়াবা কারবারি ও জেলা পরিষদের সদস্য সুলতান মাহমুদ বিপ্লব ও তার চাচা ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

লোহাগড়া থানার ওসি সৈয়দ আশির রকুহমান জানান, এ ঘটনায় ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। ৯টি ঢাল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত। গ্রামের বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। গ্রামবাসীসহ নিহতের স্বজনরা মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে ইউএনওর কাছে দাবিদাওয়া পেশ করেছে বলেও তিনি জানান।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে সিআইডির ফরেনসিক শাখার ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম এর নম্বরে কয়েকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Facebook Comments
আরো পড়ুন
error: Content is protected !!