বিভিন্ন আইনে দেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত : মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিভিন্ন আইনে বাংলাদেশের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) রজতজয়ন্তী উৎসবের শোভাযাত্রার উদ্বোধনকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দৈনিক জার্নাল বাংলাকে বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের সঙ্গে সঙ্গে সারা বিশ্বের গণমাধ্যম কর্মীদের ওপরে একটা চাপ সৃষ্টি শুরু হয়েছে এবং বাংলাদেশে সেই চাপ অনেক বেশি আমরা লক্ষ্য করছি। আমরা মনে করি, গণতন্ত্রের জন্য এই যে গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা। এ জন্য যে আইনগুলো তৈরি করা হয়েছে ইতিমধ্যে, সেই আইনগুলো কখনো স্বাধীন গণমাধ্যমে কাজ করার জন্য কখনো উপযোগী নয়। আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, বাংলাদেশে গণমাধ্যম, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতকে সহ্য করার  যে সহনশীলতা তা ধীরে ধীরে একেবারেই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশে গণমাধ্যমের অবস্থা তুলে ধরে তিনি দৈনিক জার্নাল বাংলাকে বলেন, ‘আমরা এখানে দেখেছি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে অনেক সংবাদকর্মী তাদেরকে নিগৃহীত হতে হয়েছে, তাদেরকে প্রাণ দিতে হয়েছে এবং তাদেরকে অনেক সময় কারাগারে যেতে হয়েছে, সংবাদ প্রতিষ্ঠানগুলো অর্থাৎ সংস্থাগুলো অনেক সময়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে মির্জা ফখরুল দৈনিক জার্নাল বাংলাকে বলেন, ‘আপনারা দেশের এই দুঃসময় একদিকে যখন করোনাভাইরাস আমাদের সমগ্র বিশ্বকে একেবারে গ্রাস করে ফেলেছে, মানব সভ্যতাকে বাধা প্রদান করেছে এই সময়ে আপনারা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে করোনার বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ, সেই যুদ্ধে ফ্রন্ট লাইনার হিসেবে কাজ করেছেন। অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। সেই সঙ্গে যারা আজকে সমস্ত বিপদকে সামনে নিয়ে যারা লড়াই করছেন তাদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

ডিআরইউ’র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে যে বিভাজনের চিন্তাভবনার যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে সর্বক্ষেত্রে ,শুধু রাজনীতি অঙ্গনে নয়, সর্বক্ষেত্রে তার একটা কুফল আমরা দেখতে পারছি। যার ফলে সমাজ বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে, মানুষ বিভক্ত হচ্ছে এবং এটা আমাদের জন্য খুব বেশি সুখকর বিষয় নয়, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য তা খুব আনন্দময় বিষয় নয়। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এখন পর্যন্ত তারা যেভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য আশার একটা আলো দেখায়। ’

বক্তব্য শেষে বিএনপি মহাসচিব ডিআরইউ’র শোভাযাত্রার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। শোভাযাত্রাটি সেগুনবাগিচার কার্যালয় থেকে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিটিউট এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় রজতজয়ন্তী কমিটির চেয়ারম্যান শাহজাহান সরদার, ডিআরইউ’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ চৌধুরী, রজতজয়ন্ত্রী কমিটির সদস্য শফিকুল করীম সাবু, সাখওয়াত হোসেন বাদশা, ইলিয়াস হোসেন, শাহনেওয়াজ দুলাল, মুফদি আহমেদ, নজরুল ইসলাম মিঠু, কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments
আরো পড়ুন